চলতি মাসের ১১ মার্চে ভারতীয় রেল রেলওয়ে সংশোধনী বিল পাস করেছে। সেই বিলে বিরাট সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় রেল। সেই বিলে বলা হয়েছে যে কেন্দ্র দেশের রেল পরিষেবাকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করতে চাইছে।
কিন্তু কেন্দ্রের দাবি মানতে নারাজ বিরোধী দলগুলো। তারা বলছে এই বিল চালু হলে রেল পরিষেবাও বেসরকারিকরণ হয়ে যাবে। চলুন জেনে নিই এই বিল সম্বন্ধে বিস্তারিত।
রেলের এই নতুন বিলে কিসের ইঙ্গিত দিয়েছে কেন্দ্র ?
কেন্দ্রীয় সরকার ১৯০৫ ও ১৯৮৯ সালের রেলওয়ে আইনকে সংশোধন করেছে এই বিলে। কেন্দ্রের মতে এই নতুন বিল চালু হলে রেল বোর্ডের ক্ষমতা ও স্বাধীনতা বেড়ে যাবে।
শুধু তাই নয় পরিষেবা খাতের দক্ষতা ও রেল ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছবে। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে এটির সাহায্যে রেলের সকল বিভাগকে বেসরকারীকরণ করে দেওয়া হবে।
এ নিয়ে কী বলেছে সরকার ?
এই বিষয়ে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন রেলের বেসরকারিকরণ করার কোন প্রশ্নই উঠছে না। দেশের রেলওয়ে ব্যবস্থাকে আধুনিক করার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেছেন যে ১.১৪ লাখ শূন্যপদে খুব শীঘ্রই নিয়োগ করা হবে প্রার্থীদের। এতে আরো বেশি করে কর্মসংস্থান বাড়বে। তিনি এটিও দাবি করেছে যে বিরোধীরা জনগণকে ভুল বোঝাচ্ছে।
সত্যিই কী বেসরকারি করণ করা হবে রেলের ?
কেন্দ্রীয় সরকার রেলের বেসরকারীকরণ না করলেও কিন্তু রেলের খাবার, স্টেশন বানানো,দেখাশোনা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার মতো পরিষেবাকে বেসরকারী করা হয়েছে। তাই বিরোধীরা এই দাবি করেছে যে এভাবেই আস্তে আস্তে রেলের সমস্ত দায়িত্ব বেসরকারি সংস্থার কাছে দিয়ে দেওয়ার ফন্দি করছে কেন্দ্র সরকার।
বিরোধীদের কেন এই বিলের আপত্তি করছে ?
এই নতুন বিল নিয়ে কংগ্রেস সংসদ বিবেক তাঙ্খা বলেছেন, “সরকার রেলের নিরাপত্তা, যাত্রী পরিষেবা, বাজেটের স্বচ্ছতা নিয়ে কোনরকম উদ্যোগ নিচ্ছে না।
বরং দায় সারতে বেসরকারি করণের দিকে এগোচ্ছে।” তার আরো দাবি যে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্টেশনের ভিড় সামলানোর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেনা সরকার।
যদিও কেন্দ্র সরকার বলছে তারা তাদের রেলওয়ে ব্যবস্থা উন্নত করার চেষ্টা করতে চাইছে তাই এই ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু বিরোধীরা কিছুতেই মানতে চাইছেনা এই বিল। তবে আসলে কী হবে তা অবশ্য সময় বলে দেবে।
মার্চের শুরুতে বেড়ে গেল LPG গ্যাসের দাম! জানুন আজকে গ্যাসের কতো দাম?